খরচ বৃদ্ধির চাপে এশিয়ার চাল রফতানিকারকরা

এশিয়ার চালের বাজারে গত সপ্তাহে মিশ্র পরিস্থিতি দেখা গেছে।

বিশ্ববাজারে চালের রফতানি মূল্য (এফওবি) কিছুটা কমলেও রফতানিকারকরা অভ্যন্তরীণ খরচ বৃদ্ধির চাপে পড়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এশিয়ার প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোয় পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় বাড়ছে। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটস বা প্লাটসের তথ্যানুযায়ী, গত ১২ মার্চ আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সাদা চালের দাম টনপ্রতি ৩৩৭ ডলারে নেমেছে। এ সময়ে পাকিস্তানে একই মানের চালের দর ছিল ৩৪৬ ডলার ও থাইল্যান্ডে ৩৬৪ ডলার। গত এক মাসে পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডে চালের দাম টনপ্রতি ১৫-১৮ ডলার পর্যন্ত কমেছে। ভারতে রুপির বিনিময় হার কমায় রফতানি মূল্যে কিছুটা ভারসাম্য থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা এখন বেশ কম। তবে বিশ্ববাজারে দাম কমলেও অভ্যন্তরীণ খরচ বেড়ে যাওয়ায় এ দরপতন রফতানিকারকদের চিন্তায় ফেলেছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ খরচ অনেক বেড়েছে। পাকিস্তানে পেট্রলের দাম প্রায় ৩৫ শতাংশ বাড়ায় অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থা সংকটে পড়েছে। মিয়ানমারে জ্বালানি সাশ্রয় করতে সরকার ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে, যেখানে নির্ধারিত দিনে নির্দিষ্ট নম্বরের গাড়ি চালানোর নিয়ম করা হয়েছে। অন্যদিকে ভিয়েতনামে জ্বালানির পাশাপাশি প্লাস্টিকের দাম বাড়ায় চালের খালি বস্তার খরচ ১৫-২০ শতাংশ বেড়েছে। এতে ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারের রফতানিকারকদের মুনাফা বেশ কমে গেছে।

জাহাজ ভাড়া ও বীমা খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক রফতানিকারক এখন আগের চুক্তিগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। বিশেষ করে যারা সিআইএফ (চালের দাম, বীমা ও জাহাজ ভাড়ার সম্মিলিত চূড়ান্ত মূল্য) ভিত্তিতে সরবরাহের চুক্তি করেছিলেন, তারা বিপাকে পড়েছেন। যুদ্ধের কারণে এখন জাহাজ কোম্পানিগুলো বাড়তি ওয়ার সারচার্জ বা নিরাপত্তা মাশুল দাবি করছে, যা রফতানিকারকরা এখন ক্রেতাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে চালের এফওবি কমলেও পরিবহন ও বীমার বাড়তি খরচের কারণে আমদানিকারকদের জন্য চূড়ান্ত কেনা দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে চাল সরবরাহ বাড়ার যে সম্ভাবনা ছিল, পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার এ অস্থিরতা এর সুফল কমিয়ে দিতে পারে। জ্বালানি তেলের বাজার স্বাভাবিক না হলে এশিয়ার চাল রফতানি বাণিজ্যে খরচের এ চাপ আরো কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে। এতে শেষ পর্যন্ত সাধারণ আমদানিকারক ও ক্রেতাদের বেশি দামে চাল কিনতে হতে পারে।

আরও